চাঁপাইনবাবগঞ্জ এর নাচোল উপজেলার বকুলতলা বাজার থেকে -আবু সাঈদ ফরহাদ
ঈদের আনন্দ মানেই নতুন পোশাক আর ভালো খাবার। কিন্তু বর্তমান বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির যাঁতাকলে সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষের কাছে গরুর মাংস কেনা এখন অনেকটা স্বপ্নের মতো। সেই স্বপ্নকেই বাস্তবে রূপ দিতে এক অভিনব ও কার্যকর পদ্ধতি বেছে নিয়েছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার নেজামপুর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চল বকুলতলা বাজারের ৩৪ জন সাধারণ মানুষ। তারা গঠন করেছেন একটি ব্যতিক্রমী ‘গোশত সমিতি’।
সরেজমিনে বকুলতলা বাজারে গিয়ে জানা যায়, ঈদের সময় একদিকে যেমন মাংসের দাম চড়া থাকে, অন্যদিকে সন্তানদের নতুন কাপড় ও অন্যান্য খরচ মেটাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয়। এই সংকট কাটাতে তারা মাসভিত্তিক জমানো টাকার মাধ্যমে বছর শেষে গরু জবাইয়ের পরিকল্পনা করেন।
সমিতির হিসাব অনুযায়ী, মোট ৩৪ জন সদস্য প্রতি মাসে ৫০০ টাকা করে জমা দেন। সে হিসেবে প্রতি মাসে আদায় হয় ১৭,০০০ টাকা। এভাবে ১২ মাস শেষে জমার পরিমাণ দাঁড়ায় ২ লাখ ৪ হাজার টাকা। এই বড় অংকের টাকা দিয়ে তারা একটি স্বাস্থ্যবান গরু ক্রয় করেন এবং ঈদুল ফিতরের সময় সেটি জবাই করে মাংস নিজেদের মধ্যে সমানভাবে বণ্টন করে নেন।
সমিতির এক সদস্য জানান, “একসাথে অনেক টাকা দিয়ে মাংস কেনা আমাদের জন্য অসম্ভব ছিল। কিন্তু মাসে ৫০০ টাকা জমানো খুব একটা কঠিন নয়। এখন আর মাংসের জন্য চিন্তা করতে হয় না, বরং বাজারের চেয়ে অনেক সাশ্রয়ী মূল্যে আমরা ভালো মানের মাংস পাচ্ছি।”
সমিতি পরিচালনার জন্য একজন ক্যাশিয়ার রয়েছেন যিনি অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে অর্থের হিসাব রাখেন। এলাকাবাসী মনে করছেন, এই ক্ষুদ্র সঞ্চয় ও সমবায় পদ্ধতি কেবল মাংসের চাহিদা মেটাচ্ছে না, বরং গ্রামীণ অর্থনীতিতে অভাব দূর করার একটি টেকসই মডেল হিসেবে দাঁড়িয়েছে। বকুলতলার এই ‘গোশত সমিতি’র উদ্যোগ এখন আশপাশের গ্রামগুলোতেও সাড়া ফেলেছে।
What do you feel about this post?
Like
Love
Happy
Haha
Sad

