দৌলতদিয়া ঘাটে বাস নদীতে, এখন পর্যন্ত ২৩ জনের মরদেহ উদ্ধার

District News

ছবি-সংগৃহীত

রাজবাড়ী প্রতিনিধি

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়া সৌহার্দ্য পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসটি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ২১ জনের মৃতদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি দুটি মৃতদেহ স্বজনরা এলে হস্তান্তর করা হবে।
আজ সকাল পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান শেষে সংশ্লিষ্টরা এসব তথ্য জানিয়েছেন।
ফায়ার সার্ভিস, উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ ও মানিকগঞ্জের ডুবুরি দল যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাসটি নদী থেকে তোলা হয়। নদীর প্রায় ৯০ ফুট নিচে বাসটির ডুবে ছিল বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। প্রবল স্রোত, ঝড় ও বৃষ্টির কারণে উদ্ধারকাজে বিঘ্ন ঘটে।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন রাজবাড়ী, কুষ্টিয়া, গোপালগঞ্জ, দিনাজপুর ও ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলার বাসিন্দারা। তাঁদের মধ্যে নারী, পুরুষ ও শিশুও রয়েছে। নিহতদের মধ্যে কয়েকজনের মৃতদেহ রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে রাখা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী বাসটি বিকেল ৫টার দিকে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পৌঁছে। ফেরিতে ওঠার সময় হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি সরাসরি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। বাসটিতে প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ জন যাত্রী ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর ৫–৬ জন যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও অনেকেই নিখোঁজ হন।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, নৌ পুলিশ, সেনাবাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসন উদ্ধার অভিযান শুরু করে। উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় নিখোঁজদের স্বজনদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে কিছু বিশৃঙ্খলার ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
ঘাট এলাকায় উপস্থিত স্বজনদের আহাজারিতে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। কেউ হারিয়েছেন সন্তান, কেউ স্ত্রী বা ভাইবোন। বেঁচে যাওয়া এক যাত্রী জানান, তিনি স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছিলেন। তাঁরা বেঁচে গেলেও তাঁর মেয়ে এখনো নিখোঁজ।
রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার জানান, ২৩টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ২১টি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, পানির গভীরতা ও স্রোতের কারণে ডুবুরিদের কাজ করতে বেগ পেতে হয়েছে।
এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে আহ্বায়ক করে কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
দুর্ঘটনা সংক্রান্ত তথ্যের জন্য জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে।
ফোন নম্বর -01733336409.

What do you feel about this post?

0%
like

Like

0%
love

Love

0%
happy

Happy

0%
haha

Haha

0%
sad

Sad

0%
angry

Angry

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *