যুক্তরাজ্যে মেনিনজাইটিস সংক্রমণের ক্লাস্টার, দুইজনের মৃত্যু

Healthcare


আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাজ্যে সম্প্রতি মেনিনগোকক্কাল সংক্রমণের একটি ক্লাস্টার নিয়ে তদন্ত শুরু করেছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন
সিএনএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে মেনিনগোকক্কাল গ্রুপ বি (MenB) নামের একটি সংক্রমণ। এটি একটি গুরুতর ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ, যা বিশেষ করে কিশোর ও তরুণদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে
সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. লিয়ানা ওয়েন বলেন, মেনিনগোকক্কাল গ্রুপ বি রোগটি Neisseria meningitidis নামের ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়। এই সংক্রমণ থেকে মেনিনজাইটিস (মস্তিষ্ক ও স্পাইনাল কর্ডের আবরণে প্রদাহ) অথবা সেপ্টিসেমিয়া (রক্তে সংক্রমণ) হতে পারে। কখনো কখনো দুই ধরনের সংক্রমণই একসঙ্গে দেখা দেয়।
তিনি বলেন, যদিও এই রোগ তুলনামূলকভাবে বিরল, তবে এটি চিকিৎসা জরুরি অবস্থা, কারণ কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রোগীর অবস্থা গুরুতর হয়ে উঠতে পারে।
বর্তমানে ইংল্যান্ডের কেন্ট এলাকায় এই সংক্রমণের ঘটনা বেশি দেখা গেছে। গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সেখানে ১৫টি পরীক্ষাগারে নিশ্চিত এবং আরও ১২টি সন্দেহজনক সংক্রমণসহ মোট ২৭টি ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তরুণদের একটি নাইটক্লাবে সংস্পর্শের মাধ্যমে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে, যার ফলে অল্প সময়ের মধ্যে একাধিক রোগী শনাক্ত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকিৎসা পাওয়ার পরও আক্রান্তদের ৮ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে। যারা বেঁচে যান তাদের অনেকের ক্ষেত্রে শ্রবণশক্তি হ্রাস, স্নায়বিক সমস্যা বা অঙ্গহানিসহ দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা দেখা দিতে পারে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ঘটনা এখনো স্থানীয় পর্যায়ের ক্লাস্টার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের জন্য সামগ্রিক ঝুঁকি কম। তবে এটি স্মরণ করিয়ে দেয় যে, বিরল হলেও গুরুতর সংক্রমণ হঠাৎ করে দেখা দিতে পারে, বিশেষ করে যেখানে মানুষ ঘনিষ্ঠভাবে মেলামেশা করে।
মেনিনগোকক্কাল ব্যাকটেরিয়া সাধারণত শ্বাসনালী ও গলার নিঃসরণ থেকে ছড়ায়। চুম্বন করা, পানীয় বা খাবারের পাত্র ভাগাভাগি করা কিংবা লালার সংস্পর্শে আসা জিনিস ব্যবহার করার মাধ্যমে সংক্রমণ হতে পারে। তবে সাধারণ স্পর্শে এটি ছড়ায় না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশু, কিশোর-তরুণ এবং ৬৫ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তিরা এ রোগে তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। এছাড়া দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা, এইচআইভি সংক্রমণ বা প্লীহা (spleen) না থাকলে ঝুঁকি বাড়ে।
রোগের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে জ্বর, মাথাব্যথা, ক্লান্তি, বমি, পেশিতে ব্যথা দেখা দিতে পারে। পরে দ্রুত অবস্থার অবনতি হয়ে ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, আলোতে অস্বস্তি, বিভ্রান্তি, খিঁচুনি ইত্যাদি গুরুতর লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, রোগটি খুব দ্রুত মারাত্মক আকার নিতে পারে, তাই এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
সূত্র: সিএনএন

What do you feel about this post?

0%
like

Like

0%
love

Love

0%
happy

Happy

0%
haha

Haha

0%
sad

Sad

0%
angry

Angry

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *