বাংলাদেশ শিশু একাডেমি হোক মানুষ গড়ার কারিগর

Corporate News

প্রেস বিজ্ঞপ্তি
সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন বলেছেন, আজকের শিশুরাই আমাদের আগামী দিনের ভবিষ্যত। পড়ালেখার পাশাপাশি শিশুদেরকে মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক এবং পরিবারের পাশাপাশি বাংলাদেশ শিশু একাডেমি শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে৷ শিশুদের মধ্যে সৃজনশীলতা, নৈতিকতা, মানসিক বিকাশ ও মূল্যবোধ জাগ্রত করার মাধ্যমে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি যেন হয় মানুষ গড়ার কারিগর।

আজ বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি কর্তৃক বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা, পুরস্কার প্রদান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি একথা বলেন।

স্বাধীনতা দিবসকে বাংলাদেশের ইতিহাসের অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের এই দিনেই বাংলাদেশের জন্মের ইতিহাস সূচনা হয়েছিলো। এরকম একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিনে প্রথমবারের মতন বাংলেদেশ শিশু একাডেমির প্রাণোচ্ছল শিশুদের সান্নিধ্যে আসতে পেরে তিনি আয়োজক প্রতিষ্ঠানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিশু একাডেমির শিশুদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণকে প্রশংসিত করে তিনি বলেন, আমরা সামনের দিনে এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই যে বাংলাদেশ হবে আজকের এই হাসিখুশি ছোট্ট সোনামণিদের জন্য।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি শিশুদের অন্তর্নিহিত বুদ্ধিমত্তাকে বিকশিত করার মাধ্যমে তাদের উৎকর্ষতা সাধনে কাজ করে থাকে। নাচ, গান, আবৃত্তি, ছবি আঁকা, কম্পিউটার প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন সেক্টরে এ একাডেমি প্রশিক্ষণ প্রদান করে। এখানে সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে শিশুদের চিন্তাশক্তি ও ব্যক্তিত্ব গড়ে ওঠে এবং শিশুরা আদর্শ মানুষ হিসেবে বেড়ে ওঠার সুযোগ পায়।
শিশু একাডেমির প্রশিক্ষক এবং শিশুদের অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, প্রশিক্ষণগুলো কতটুকু কাজে লাগছে, বাচ্চারা এই প্রশিক্ষণগুলো নিয়ে কতটুকু এগিয়ে যাচ্ছে সে বিষয়গুলো আপনাদের মনিটরিং এ রাখতে হবে। কারণ জিপিএ ৫ পাওয়াটাই শুধু মুখ্য উদ্দেশ্য হওয়া উচিত নয়। জিপিএ ৫ পাওয়া বাচ্চাটা মানসিকভাবে কতটুকু সুস্থ আছে, আমরা তাকে কতটুকু রঙিন শৈশব দিতে পারছি, সে কতটুকু খেলতে পারছে, কতটুকু সময় তার পছন্দের কাজের পেছনে ব্যয় করতে পারছে, কতটুকু আদব কায়দা শিখছে, কতটুকু নিজের মতামতকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারছে সেই জায়গাগুলোতে অনেক বেশি করে নজর দেওয়ার সময় এখন আমাদের এসেছে।
ফারজানা শারমীন বলেন, বাচ্চাদের শারীরিকভাবে বেড়ে ওঠা, তাদের সুস্থতা, পড়ালেখা এবং পরীক্ষার রেজাল্ট নিয়ে আমরা অভিভাবকরা যতটা সচেতন থাকি তার দুই শতাংশ সচেতন যদি তাদের মানসিক বেড়ে ওঠা নিয়ে থাকতাম তাহলে বাংলাদেশে আজ এমন মানবিকতার বিপর্যয় ঘটতো না। তিনি আরো বলেন, একটি বাচ্চার বেড়ে ওঠা নির্ভর করে তার পরিবারের উপর। একটি শিশু পরিবারের সান্নিধ্যে থেকে যদি সুন্দর সময় পার করতে পারে, যদি তার পিতামাতাকে ভালো বন্ধু হিসেবে পায় তাহলে সেই শিশুর বিপথে যাওয়ার সম্ভাবনা খুব কম থাকে। আমাদের খেয়াল রাখতে হবে বাচ্চারা যেন আমাদের থেকে দূরে সরে না যায়। পরিবেশ, পারিপার্শ্বিকতা বাচ্চার বেড়ে ওঠার অন্যতম নিয়ামক। আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মকে সুরক্ষিত করতে হলে কেবলমাত্র পড়ালেখা নয়, তাদেরকে মানুষের মতন মানুষ করে গড়ে তুলতে হবে এবং এই মানুষ করার প্রক্রিয়াটি শুরু হয় ঘর থেকেই। আমাদের অনেক ব্যস্ত সময়ের ভেতর থেকেও যেন আমরা আমাদের সন্তানদের জন্য কোয়ালিটি টাইম বের করতে পারি সেই বিষয়ে আমাদের সর্বদা সচেষ্ট থাকতে হবে।

শিশু একাডেমিকে নির্দেশনা প্রদান করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাচ্চারা কী চায়, কী ধরনের প্রশিক্ষণ তারা পছন্দ করে, কী ধরনের প্রশিক্ষণ পেলে তারা নিজেদের আরো সমৃদ্ধ করতে পারবে এই বিষয়ে প্রতিনিয়ত যেন বাচ্চাদের থেকে মতামত নেওয়া হয়। অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, শিশু একাডেমিকে আরো কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে কী ধরনের পরিবর্তন আনা প্রয়োজন, কীভাবে এই একাডেমিকে আরো আধুনিকায়ন করার মাধ্যমে একাডেমির উন্নয়ন সাধন করা যায় সে বিষয়ে আপনাদের সুপারিশগুলো আমাদের কাছে তুলে ধরুন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার শিশুদেরকে নিয়ে অনেক ধরনের কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে এবং সেগুলো বাস্তবায়ন করতে সরকার বদ্ধপরিকর। শিশু একাডেমির পরিসর বাড়ানোর জন্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে যে কর্মপরিকল্পনাগুলো রয়েছে সেগুলো বাস্তবায়নের আশ্বাস প্রদান করেন তিনি। তিনি আরো বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য কারিকুলামে একটি স্থিতিশীলতা আনার চেষ্টা করছে সরকার। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, এই কারিকুলাম খুব শীঘ্রই সকলের দোড়গোড়ায় পৌছে যাবে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পড়ালেখার পাশাপাশি বাচ্চাদের অন্তর্নিহিত প্রতিভাকে বিকশিত করার জন্য, বাচ্চাদের ভেতরের আমিত্বকে বের করে নিয়ে আসার জন্য, তাদের মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য শিশু একাডেমির ছায়াতলে বাচ্চাদের যেন অভিভাবকরা নিয়ে আসেন সেই বিষয়ে শিশু একাডেমিকে অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে কাজ করার নির্দেশনা প্রদান করেন তিনি। সকলের উদ্দেশ্যে দেশ গড়ার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আসুন আমরা সকলে মিলে আমাদের সন্তানদের জন্য একটি সুন্দর ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলি যেখানে আমাদের সন্তানরা ভবিষ্যতে এই দেশ গড়ার দায়িত্ব নিজেদের কাধে তুলে নিবে নির্ভয়ে এবং স্বেচ্ছায়।
আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি কর্তৃক আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে থেকে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার তুলে দেন প্রধান অতিথি ফারজানা শারমীন।

বাংলাদেশ শিশু একাডেমির মহাপরিচালক মোছাঃ আরজু আরা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শবনম মোস্তারী। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জিনাত আরাসহ বাংলাদেশ শিশু একাডেমির কর্মকর্তাগণ, প্রশিক্ষক, প্রশিক্ষণার্থী এবং অভিভাবকবৃন্দ।

অনুষ্ঠান শেষে বাংলাদেশ শিশু একাডেমির শিশুশিল্পীদের অংশগ্রহণে মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

What do you feel about this post?

0%
like

Like

0%
love

Love

0%
happy

Happy

0%
haha

Haha

0%
sad

Sad

0%
angry

Angry

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *